আজওয়া খেজুর

আজওয়া খেজুর

৳ 425.00

খেজুরের মধ্যে সবচেয়ে দামী ও সর্বোত্তম হলো আজওয়া খেজুর। মদীনায় এ খেজুরের ফলন হয় বেশি। আজওয়া খেজুর কালো ও মাঝারি আকৃতির হয়ে থাকে। পুষ্টির দিক থেকেও খেজুরে রয়েছে সবধরনের প্রয়োজনীয় খাদ্যোপাদান। পুষ্টিবিদদের মতে, খেজুরে রয়েছে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালরি, সোডিয়াম, আয়রনসহ আরো অনেক খাদ্যোপাদান। খেজুরে রয়েছে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বিশেষকরে আজওয়া খেজুরের কথা আলাদা করে বলতেই হবে।
বিস্তারিত জানতে অনুগ্রহ করে নিচের লেখাটি পড়ুন।

197 in stock

Qty:
Compare

Description

আজওয়া খেজুর (Ajwa Dates)

খেজুর এমন একটি প্রকৃতি প্রদত্ত ফল যা কমবেশি সবাই খেতে পছন্দ করে। বর্তমানে আমাদের দেশে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষাবাদ শুরু হলেও মূলত এই খেজুরের জন্য আমাদের তাকিয়ে থাকতে হয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বিশেষ করে আরব দেশ গুলোরে দিকে। বর্তমানে বাজারে অনেক ধরনের খেজুর পাওয়া যায়। যেমন – আজওয়া, আমবার, বরণী, সুগায়ি, মরিয়ম, শাকাবী, জাবী ইত্যাদি। এসব খেজুরের স্বাদ, আকৃতি ও বর্ণে রয়েছে ভিন্নতা।

খেজুরের মধ্যে সবচেয়ে দামী ও সর্বোত্তম হলো আজওয়া খেজুর। মদীনায় এ খেজুরের ফলন হয় বেশি। আজওয়া খেজুর কালো ও মাঝারি আকৃতির হয়ে থাকে। পুষ্টির দিক থেকেও খেজুরে রয়েছে সবধরনের প্রয়োজনীয় খাদ্যোপাদান। পুষ্টিবিদদের মতে, খেজুরে রয়েছে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালরি, সোডিয়াম, আয়রনসহ আরো অনেক খাদ্যোপাদান। খেজুরে রয়েছে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা, বিশেষ করে আজওয়া খেজুরের কথা আলাদা করে বলতেই হবে।

আজওয়া খেজুরের ইতিহাসঃ

>> বরকতময় খেজুর আজওয়া
আজওয়া খেজুর পৃথিবীর সবচেয়ে দামি খেজুর। স্বাদের দিক দিয়েও সবচেয়ে বেশি সুস্বাদু আর কেনইবা হবে না? যে খেজুর রাসুলের নিজ হাতে রোপন করা। আর তা রোপনের পেছনে ছিল আশ্চর্যজনক ও বিস্ময়কর ঘটনা। আর তাহলো-

ইসলাম গ্রহণের আগে হজরত সালমান ফারসি (রাঃ) ছিলেন একজন ইয়াহুদির অধীনে ক্রীতদাস। তিনি যখন তার কাছ থেকে মুক্তি চাইলেন, তখন ইয়াহুদি তাকে মুক্তি দিতে আপত্তি জানায়। বারবার বলার পর ওই ইয়াহুদি বাস্তবে অসম্ভব একটি শর্তসহ দুইটি শর্ত জুড়ে দেয়। যা স্বাভাবিকভাবে সম্ভব নয়। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল হজরত সালমান ফারসি (রাঃ)কে মুক্তি দেবে না।

>> ইয়াহুদির শর্ত
– অল্প দিনের মধ্যে ৬০০ দিরহাম দেয়া।
– ৩০টি খেজুর গাছ রোপন করে তা পরিচর্যা করে অল্প দিনে খেজুর উৎপন্ন করে পাকিয়ে দেয়া। এ শর্তটি ছিল স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় একেবারেই অসম্ভব।

>> কঠিন শর্ত দেয়ার কারণ
ইয়াহুদি জানতো যে, সালমান ফারসি কোনোভাবে ৬০০ দিরহাম সংগ্রহ করতে পারলেও অল্প সময়ে খেজুর গাছ রোপন এবং তা থেকে অল্প সময়ে খেজুর ফলানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আর তার মুক্তি পাওয়ারও কোনো সম্ভাবনা নেই। কেননা খেজুর রোপন থেকে ফল উৎপন্ন হওয়া অনেক সময়ের ব্যাপার।

>> বিশ্বনবির দরবারে সালমান ফারসি
কোনো উপায় না দেখে হজরত সালমান ফারসি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর দরবারে এসে ইয়াহুদির দেয়া শর্ত বর্ণনা করেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ৬০০ দিনারের ব্যবস্থা করলেন।

তারপর ইয়াহুদির দেয়া এক কাঁদি খেজুর চারা রোপন করতে হজরত আলি (রাঃ)কে সাথে নিয়ে গেলেন বিশ্বনবী। তিনি দেখলেন খেজুরের বীজগুলো কলো, আগুনে পেড়ানো। ইয়াহুদি এগুলো আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে যাতে তা থেকে চারা না গজায়।

>> বিশ্বনবীর নিজ হাত বীজ রোপন
বিশ্বনবী এ বীজগুলো রোপনের উদ্দেশ্যে হজরত আলি (রাঃ)কে বললেন গর্ত করার জন্য। বিশ্বনবী (সাঃ) সে গর্তে বীজ রোপন করলেন। আর সালমান ফারসি (রাঃ)কে বললেন বীজ রোপন করা গর্তে পানি দেয়ার জন্য।

>> সালমান ফারসি (রাঃ)কে বিশ্বনবির নির্দেশ
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সালমান ফারসি (রাঃ)কে এ নির্দেশ দিলেন যে, বাগানের শেষ প্রান্তে না যাওয়া পর্যন্ত পেছনে ফিরে তাকানো যাবে না। সালমান ফারসি (রাঃ) পেছনে না তাকিয়ে পানি দিতে লাগলেন।

>> বিশ্বনবীর অন্যতম মু’জিজা
সালমান ফারসি (রাঃ) বাগানের শেষ প্রান্তে যাওয়ার পর তিনি পেছনে তাকিয়ে দেখলেন যে প্রতিটি চারা গাছে খেজুরে পরিপূর্ণ। পোড়া খেজুর থেকে গজানো চারা ও খেজুরগুলো পেকে কালো বর্ণ হয়ে গেলো। কারণ এই খেজুরের বীজগুলো ছিলো আগুনে পোড়া কয়লার মতো কালো। তাই এর স্বাদও অনেকটা পোড়া পোড়া গন্ধ। যার নাম আজওয়া।

>> দুনিয়ার সেরা খেজুর
বিশ্বনবীর নিজ হাতে পোড়া বীজ লাগানো খেজুরই আজওয়া। যা দুনিয়ার সবচেয়ে দামি ও উন্নতমানের সুস্বাদু খেজুর। এ খেজুরের গুণ, বরকত ও ফজিলত বর্ণনা করেছেন স্বয়ং বিশ্বনবি (সাঃ)। হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে কয়েকটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেই দিন ও রাত পর্যন্ত কোনো বিষ ও যাদু তার কোনো ক্ষতি করবে না। অন্য বর্ণনায়, সাতটি খেজুর খাওয়ার কথা বলা হয়েছে। (বুখারি)

হযরত আয়শা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, নিশ্চয়ই আলিয়ার (মদীনার গ্রাম) আজওয়া খেজুর রোগ নিরাময়কারী এবং প্রাতঃকালীন প্রতিষেধক – (মুসলিম)

আজওয়া খেজুর সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সঃ) আরো বলেন, আজওয়া জান্নাতের ফল, এর মধ্যে বিষের নিরাময় রয়েছে (তিরমিজি)

হযরত সায়ীদ (রাঃ) বলেন, একদা আমি মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে দেখতে এলেন এবং আমার বুকের উপর তাঁর হাত রাখলেন। তাঁর পবিত্র হাতের শীতলতা আমার হৃদয় পর্যন্ত পৌছে গিয়েছিলো। তিনি আমাকে বললেন তুমি হৃদয়ে কষ্ট অনুভব করছো। তুমি হারেস ইবনে কালদাহ এর কাছে যাও, সে একজন চিকিৎক, সে যেনো মদীনার সাতটি আজওয়া খেজুর নিয়ে বীজসহ চূর্ণ করে তোমার মুখে ঢেলে দেয় (আবুদাউদ)।

আজওয়া খেজুরের পুষ্টিগুণঃ

আজওয়া খেজুরের পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে বলা হয়, চারটি বা ৩০ গ্রাম পরিমাণ খেজুরে আছে ৯০ ক্যালোরি, এক গ্রাম প্রোটিন, ১৩ মি.লি. গ্রাম ক্যালসিয়াম, ২ দশমিক ৮ গ্রাম ফাইবার। এছাড়াও খেজুরের রয়েছে আরও অনেক পুষ্টি উপাদান।

👉 পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ও প্রাকৃতিক আঁশে পূর্ণ খেজুর ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। তাই যারা নিয়মিত খান, তাঁদের বেলায় ক্যান্সারের ঝুঁকিটাও অনেক কম থাকে। হৃদপিণ্ডের সবচেয়ে নিরাপদ ওষুধ খেজুর।
👉 মাত্র কয়েকটি খেজুর ক্ষুধার তীব্রতা কমিয়ে দেয় এবং পাকস্থলীকে কম খাবার গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। অল্পতেই শরীরের প্রয়োজনীয় শর্করার ঘাটতি পূরণ করে।
👉 বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের জন্য সমৃদ্ধ এক খাবার, যা মায়ের দুধের পুষ্টিগুণ আরো বাড়িয়ে দেয় এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
👉 ক্যালসিয়াম হাড় গঠনে সহায়ক। আর খেজুরে আছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম, যা হাড়কে মজবুত করে। অন্ত্রের কৃমি ও ক্ষতিকারক পরজীবী প্রতিরোধে বেশ সহায়ক। অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে।
👉 খেজুর দৃষ্টিশক্তি বাড়িয়ে রাতকানা প্রতিরোধেও সহায়ক। খেজুরে আছে এমন সব পুষ্টিগুণ, যা খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে।
👉 যকৃতের সংক্রমণে উপকারী। এ ছাড়া গলাব্যথা এবং বিভিন্ন ধরনের জ্বর, সর্দি ও ঠাণ্ডায় বেশ কাজ দেয়। শিশুদের মাড়ি শক্ত করতে সাহায্য করে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডায়রিয়াও প্রতিরোধ করে। তাই শুধু রমজান মাসে কেন, বছরজুড়েই খাদ্যতালিকায় থাকুক খেজুর।

FH SHOP – এ আপনারা পাচ্ছেন বাছাইকৃত অরিজিনাল আজওয়া খেজুর

৫০০ গ্রামের প্রতিটি কৌটা ৪২৫ টাকা। ১ কেজি ৮৫০ টাকা।

.

আমাদের অন্যান্য সকল পন্যের বর্তমাণ দাম একসাথে দেখতে অনুগ্রহ করে ভিজিট করুন – https://www.facebook.com/fhshopbd/posts/3700881136622208

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “আজওয়া খেজুর”

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
X