সমকামীতা কি কোন রোগ ? রোগ হলে তার চিকিৎসা কি ?

ক্যাটাগরি: পুরুষের স্বাস্থ্য | তারিখ: 07/10/18 | No Comment
সমকামীতা

সমকামীতা কি ?

সমকামীতা (ইংরেজি: Homosexuality, হোমোসেক্সুয়ালিটি) বলতে সমলিঙ্গের ব্যক্তির প্রতি যৌন আকর্ষণ অথবা যৌন আচরণকে বোঝায়। যেমন পুরুষের প্রতি পুরুষের যোউন আকর্ষন ও নারীর প্রতি নারীর যৌন আকর্ষন । এই ধরনের সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ব্যক্তিগত বা সামাজিক পরিচিতি, এই ধরনের আচরণ এবং সমজাতীয় ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত কোনো সম্প্রদায়কেও এই শব্দটি দ্বারা নির্দেশ করা হয়।
.
মহিলা সমকামীদের বোঝাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শব্দটি হল লেসবিয়ান এবং পুরুষ সমকামীদের ক্ষেত্রে গে, যদিও গে কথাটি প্রায়শ সমকামী মহিলা ও পুরুষ উভয়কে বোঝাতেও সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়।

সমকামীতা কি স্বাভাবিক ?

ভোগবাদে সমকামীতা একটি পণ্য, একটি শখ! সমকামিতার প্রধান কারণ প্যারেন্টিং এর চাহিদা কম থাকা। পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাহীনতা বা এককথায় অসামাজিকতা সমকামীতাকে শখে পরিণত করে। যুক্তরাজ্যের এক্সটার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইভলুশনারী জেনেটিসিস্ট এল্যান মুর মানুষের সমকামীতাকেও সেভাবেই দেখেছেন।
.
যে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এখন ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হয় সেই তামাককেই ইউরোপিয়ান ডাক্তাররা (১৫’শো শতকে) মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে ও ক্যান্সারের নিরাময়কল্পে সেবন করার পরামর্শ দিতো। তাছাড়া আমেরিকান গৃহযুদ্ধের সময় তামাক চাষে উৎসাহ দান করা হতো, কারণ এই তামাক চাষের দ্বারা তারা ফরাসীদের কাছ থেকে করা ঋণ পরিশোধ করতে পারত। তামাক ব্যবসায়ীরাও তাদের ব্যবসাকে নির্ঝঞ্ঝাট রাখতে পেরেছিল শক্তিশালী লবিস্ট গ্রুপদের দ্বারা। আপাত যে তামাককে একসময় উপকারী বলে ধরা হয়েছিল সেটা ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।
.
আবার স্বার্থ হাসিলের জন্য কিংবা ব্যবসায়িক লাভের জন্যও ক্ষতিটাকে ঢাকতে বিভিন্ন ধরণের ব্যাখ্যা দাড় করানো হয়, লবিস্ট গ্রুপকে তাদের পক্ষে প্রচারণা চালানো হয়। এর সাথে যুক্ত হয় ভোগবাদী প্রপাগান্ডা মেশিনগুলো। নগ্নতার মধ্যে যেরকম আধুনিকতা থাকে সমকামিতার পক্ষাবলম্বনের মধ্যেও থাকে সভ্যতার অহমিকা! ফলে এর কিছু প্রচারক ও সমর্থকও আনাচে-কানাচে পাওয়া যায়। গ্লোবাল ওয়ারমিং নিশ্চিত ক্ষতিকর জেনেও শুধুমাত্র ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিলের জন্য এর বিপক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয় (গ্লোবাল ওয়ার্মিং- সভ্যতার খোলসে অমানবিকতা! ) (১) সমকামিতার বিরুদ্ধাচারণকেও এখন পাশ্চাত্য মিডিয়া, একাডেমিক পরিসরে একেবারেই সহ্য করা হয় না! অথচ ১৯৭৩ সালের আগে একে মানসিক অসুস্থতা হিসেবেই দেখা হতো (২)। ১৯৭৩ সালে আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল এসোসিয়েশন (APA) সমকামীতাকে মানসিক অসুস্থতা থেকে অব্যহতি দেয়।

তাহলে দেখা যাক সমকামীতার সাথে স্বাভাবিক যৌন জীবণের তুলনামূলক চিত্রটি কেমন:
·
সমকামীতার সমর্থনে যে পশুপাখির সমকামিতার দোহাই দেয়া হয় তাতে ঘাপলা আছে। দেখা গেছে পিতামাতার সান্নিধ্য কম থাকা পশুপাখিদের সমকামিতার অন্যতম একটি কারণ। (৩)
·
ইন্টারনেশনাল জার্নাল ও এপিডিওলজিতে প্রকাশিত ১৯৮৭ এর শেষ দিকে এবং ১৯৯২ এর প্রথম দিকে এক জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে সমকামী ও উভকামীরা অস্বাস্থ্যকর জীবণযাপন করে এবং তাদের গড় আয়ু স্বাভাবিকের চেয়ে কম। (৪)
·
ইস্টার্ণ সাইকোলজিক্যাল এসোসিয়েশনে প্রকাশিত “Federal distortion of the homosexual footprint” এ ড: পল ক্যামেরুন দেখিয়েছেন পুরুষ ও মেয়ের বিবাহসম্পর্ক আয়ুষ্কাল বাড়িয়ে দেয় যেখানে সমকামিদের ক্ষেত্রে আয়ুষ্কাল ২৪ বছর কম। পল ক্যামেরুন ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল, কানাডিয়ান মেডিক্যাল এসোসিয়েশন জার্নাল, পোস্টগ্রাজুয়েট মেডিক্যাল জার্নাল এর সম্পাদনা করে থাকেন। তার নিজের ৪০ টার মত আর্টিকেল আছে সমকামিতার উপর।
১৯৯০ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে ডেনমাকর্কে স্বাভাবিক যৌনাচারীর গড় আয়ু যেখানে পাওয়া গেছে ৭৪, সেখানে ৫৬১ গে পার্টনার এর গড় আয়ু পাওয়া যায় ৫১! সমকামী মহিলাদের ক্ষেত্রেও এই গড় আয়ুর হার কম, আনুমানিক ২০ বছর কম! অপরদিকে ধুমপায়ীদের ক্ষেত্রে এই আয়ুষ্কাল কমে যাবার হার মাত্র ১ থেকে ৭ বছর!
·
স্বাভাবিক যৌনাচারের চেয়ে সমকামিদের অবসাদ ও ড্রাগে আসক্তির সম্ভবনা প্রায় ৫০গুন বেশী (৫) । তাছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে সমকামিদের মধ্যে আত্নহত্যার প্রবণতা ২০০গুণ বেশী। সমকামি পুরুষদের মধ্যে এই প্রবণতা আরো বেশী (৬) । সমকামি লেসবিয়ান, গে ও উভকামিদের মধ্যে নিজেদের ক্ষতি করার প্রবণতাও থাকে বেশী।(৭)
.
সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল ও প্রিভেনশন এর মতে সমকামিদের মধ্যে এইডস নামক রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভবনা সবচেয়ে বেশী। ২০০৬ সালে এক জরিপে দেখা গেছে ৫৬০০০ নতুন এইচ আই ভি আক্রান্তের মধ্যে ৫৩% গে অথবা সমকামি। তাছাড়া গে’দের মধ্যে যারা এইডসে আক্রান্ত তাদের মৃত্যুঝুঁকি অন্যন্য এইডস আক্রান্তদের থেকে ১৩গুন বেশী। ( ৮)
·
সমকামীতা সিফিলিস এর মত রোগ ছড়াতেও ব্যাপকভাবে দায়ী। যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটাতে ২০০৮ সালে সিফিলিস ৪০ভাগ বেড়ে যাবার কারণ উদঘাটনে সমকামিতার সম্পর্ককে পাওয়া যায়। ২০০৮ সালে মিনেসোটার ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ এ ১৫৯ টি সিফিলিস এর ঘটনা পাওয়া যায়, এর মধ্যে ১৫৪টিই ঘটে পুরুষের মধ্যে আর এর মধ্যে ১৩৪ জনই আরেকজন পুরুষের সাথে যৌনক্রিয়া করেছে বলে স্বীকার করে।( ৯)
·
কিছু কিছু রোগ আবার ‘গে রোগ’ নামের খ্যাতি ইতিমধ্যেই পেয়ে গেছে, এরকই একটি হল ‘স্টাপ স্টেইন’. একসময় ধারণা করা হয়েছিল এটা সাধারণ জনগণের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। (১০)
.
সমকামিতা বিবর্তনবাদের দোহাই দিয়ে একাডেমিক লেভেলে এক ধরণের প্রশ্রয় পায়। কিন্তু সেসব গবেষণায় যে জরিপের ডাটা ব্যবহার করা হয় সেগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ থাকে। সমকামিদের সমানাধিকারের পক্ষে প্রচার চালানো যুক্তরাজ্যের গ্রিফিথ ভন উইলিয়াম (১১) থেকে জানা যায় সমকামিদের নিয়ে গবেষণায় সমকামীরা স্বেচ্ছায় সাহায্য করতে প্রস্তুত থাকে। তাছাড়া ১৯৯৩ সালে চালানো গবেষণায় সমকামিতার জন্য জিনের সাথে যে সংযোগ দেখানো হয়, নতুন গবেষণায় তা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়। অথচ সমকামিতার ব্যাপারে জিনের ভুমিকাকে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ বলে ধরা হত।
.
অনেক বিজ্ঞানী গে জিন পাবার ব্যাপারে দাবীও করেছিলেন। কিন্তু দেখা যায় তাদের সেসব দাবী শেষপর্যন্ত অসার বলেই প্রতীয়মান হয়েছে।
সমকামীতা যদি জিনগতই হবে তাহলে সমকামি পুরুষ ও মহিলার যমজ সন্তানদের ১০০ ভাগ সমকামি হবার কথা। অথচ যমজ সন্তানদের উপর গবেষণার চিত্র থেকে এটা ভুল বলেই প্রতীয়মান হয়। অনেক গবেষণায় আবার এভাবে দেখানো হয় যে সমকামি সন্তান জন্মদানকারী মা সন্তান জন্ম দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশী উর্বর হয়। কিন্ত গবেষকরা এও স্বীকার করেছেন যে এটা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। আর তাছাড়া সমকামিতার কারণ উদঘাটনে এই প্রচেষ্টা যদি পুনঃগবেষণা দ্বারা প্রমাণিত হয়ও তার হার খুব কম। পরে ২০০২ সালে নাফিল্ড কাউন্সিল অব বায়োএথিক্স জিন ও আচরণ নিয়ে তাদের রিপোর্টে, লিঙ্গ নির্ধারণে জিন ও জীববিজ্ঞানের গবেষণা নিয়ে সমস্যার কথা স্বীকার করে এবং গবেষণাকে সতর্কতার সাথে দেখা উচিত বলে মতামত দেন। (১২)
.
দূ:খজনকভাবে পাশ্চাত্য মিডিয়ায় সমকামিতা পক্ষে যে অতিরিক্ত মাতামাতি তার প্রতি পাল্লা দিতে গিয়ে অনেক বিজ্ঞানীই নিজেদের তথ্যকে অনাবশ্যকভাবে হাইলাইট করতে গিয়ে পুরো বিষয়টিকে ভুলভাবে উপস্হাপন করে ফেলছেন। শুধু গে’জীনই নয় সমকামিতাকে মস্তিস্কের কোন অংশের নিউরণের কিছু ভিন্নতা হিসাবে দেখানোর প্রয়াস চালানো হয় যা শেষ পর্যন্ত তা সেরকম সাফল্য পায়নি। (১৩)
.
সমকামীতা একটি অত্যাধিক ভোগবাদিতার উপকরণ। তাছাড়া পরিস্থিতিও এর বিকাশ ও পরিপুষ্ট হবার জন্য দায়ী। স্বাভাবিক যৌনসম্ভোগের উপায় না থাকলে সমকামীতা হয়ে উঠে অপরিহার্য যৌনাচার। সেজন্যই সৈনিকদের মধ্যে এর প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করার মত! ইউএলসিএ এর আইন স্কুলের উইলিয়াম ইনস্টিটিউটের গবেষণালব্দ ফলাফলে জানা যায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে আনুমানিক ৬৬,০০০ সমকামি ও উভকামি আছে! ২০০৯ এর গ্যালপ জরিপেও জানা যায় যুক্তরাষ্ট্রের ৬৯% লোক সমাকামিদের সেনাবাহিনীতে কাজ করাকে সমর্থন করে! (১৪)
.
ইংল্যান্ডের লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানী রবিন ডানবার মনে করেন যুদ্ধ ও শিকারে সমকামিতা পুরুষ গোত্রকে সংগঠিত রাখতে সাহায্য করে।(১৫)
.
প্রাচীন গ্রীসে স্পার্টানদের এলিট সৈন্যদের মধ্যে সমকামিতাকে উৎসাহিত করা হত। গ্রীক স্পার্টান ছাড়াও অন্য গ্রীক শহর থেবেস, এথেন্সেও সমকামিতার উদাহরণ পাওয়া যায়। থিবেনদের এলিট ফোর্স ৪০ বছর যাবত বিরাজমান ছিল। এছাড়া জাপানিজ সামুরাইদের মধ্যেও সমকামিতার অস্তিত্ব ছিল বলে জানা যায়। কির্কপ্যাট্রিকও ম্যালানেশিয়ার সাম্বিয়া উপজাতিদের মধ্যেও এই সমকামিদের প্রমাণ পাওয়া যায়। সাম্বিয়ারা প্রতিবেশী গোত্রগুলোর সাথে প্রায়ই যুদ্ধবিবাদে জড়িয়ে পড়ত আর তা করত শত্রুপক্ষের মাথার খুলি সংগ্রহের জন্য। সৈন্যদের মধ্যে সমকামিতা তাদের বন্ধনকে মজবুত করত যা তাদের প্রতিরক্ষার জন্য ছিল খুব গুরুত্বপুর্ণ। তবে প্রফেসর ডানবার সত্য কথাটি বলতে ভুলেননি যে সমকামিতা রাজনীতির প্যাচে আটকে আছে যাকে যাকে আরো গবেষণার মাধ্যমে অবমুক্ত করা প্রয়োজন ।
.
মানবধর্ম বিরুদ্ধ অস্বাভাবিক ঘৃণ্য কর্ম হিসেবে সমকামিতাকে অবশ্যই বর্জন করতে হবে। আর এই দুষ্কর্মে আসক্ত বলে প্রমানীত হলে সমকামিদের উপযুক্ত সাজা দিতে হবে। যারা জেনেবুঝে এই দুষ্কর্ম করে এবং এটিকে ইনিয়ে বিনিয়ে জায়েজ বানাবার পায়তারা করে- তাদেরকে স্ট্রেট সাজা দিতে হবে। কারন বাংলাদেশের আইনে সমকামিতা অপরাধ । আর একটা অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়াও অপরাধ ।

সমকামীতা নিয়ে বাংলাদেশের আইন কি বলে?

বাংলাদেশের সংবিধানে সকল নাগরিকের ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকার দেয়া হলেও নৈতিক অবক্ষয়ভিত্তিক বিধিনিষেধ রয়েছে। ৩৭৭ ধারা মোতাবেক সমকামিতা ও পায়ুমৈথুন শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ, যার শাস্তি দশ বছর থেকে শুরু করে আজীবন কারাদণ্ড এবং সাথে জরিমানাও হতে পারে। ৩৭৭. প্রকৃতিবিরুদ্ধ অপরাধ: কোন ব্যক্তি যদি স্বেচ্ছায় কোন পুরুষ, নারী বা পশুর সঙ্গে প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে যৌন সঙ্গম করে, তবে তাকে আজীবন কারাদণ্ড দেয়া হবে, অথবা বর্ণনা অনুযায়ী নির্দিষ্টকালের কারাদণ্ড প্রদান করা হবে যা দশ বছর পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে, এবং এর সাথে নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক জরিমানাও দিতে হবে। ব্যাখ্যা: ধারা অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণে যৌনসঙ্গমের প্রয়োজনীয় প্রমাণ হিসেবে লিঙ্গপ্রবেশের প্রমাণ যথেষ্ট হবে।
৩৭৭ ধারার ব্যাখ্যায় পায়ুসঙ্গমজনিত যে কোন যৌথ যৌন কার্যকলাপকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একারণে, পরস্পর সম্মতিক্রমে বিপরীতকামী মুখকাম ও পায়ুমৈথুনও উক্ত আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হতে পারে।

চিকিৎসাঃ

ইউনানী আয়ুর্বেদিক ও হোমিও চিকিৎসা বিজ্ঞান মতে সমকামীতা একটি রোগ , উপরের আলোচনা দ্বারাও আমরা দেখলাম যে , সমকামীতা হলো রোগের ফ্যাক্টরি । হোমিও মতে এর জন্য চিকিৎসা / ওষুধ আছে ।
যে সকল হোমিও চিকিৎসক সমকামী রোগের চিকিৎসা করতে চান তাদের মনে রাখতে হবে সমকামিতার সাথে অনেকক্ষেত্রেই / বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানসিক সমস্যা জড়িত । কোনো কোনো মনো ও চিকিৎসা এক্সপার্টদের মতে পুরোটাই মানসিক বিকার !! এখানে যে যাই বলুকনা কেনো এটাই সত্যি ।
.
কোনো স্বাভাবিক পরিবেশে মানুষ সমকামি হয়না । হয় পারিবারিক অশান্তি । মা বাবার ঝগড়া , যেমন একটা মেয়ে দেখলো তার বাবা আজীবন মায়ের সাথে ঝগড়া করে গেলো , তার মা শান্তিতে নাই তখন তার অবচেতন মন পুরুষ বিদ্বেষী হয়ে যায় , এভাবে একতা ছেলে ও মেয়ে বিদ্বেষী হয়ে যায় , আর অন্য লিঙ্গের প্রতি তার আকর্ষন চলে আসে । অন্যলিঙ্গের প্রতি বিদ্বেষ থেকেই এটা হয় । ছোটোবেলায় যৌন নির্যাতন । ছোটো বেলায় বাবা মা বা যে কোনো একজন মারা যাওয়া । রক্ষনশীল পরিবারের মানুষ । মজা করতে গিয়ে এই প্রাক্টিস পরে এতেই এডিক্টেড ।যত সমকামী আছে তাদের মধ্যে প্রায় ৮০ % ভালো করা সম্ভব যদি তিনি নিজে স্বাভাবিক হতে চান । এখানে টপ ও বটম দের মধ্যে বেশিরিভাগ টপ হয় উভকামি না হয় মজা নেওয়ার জন্য টপ রোল প্লে করে আসলে সে সমকামী না । কিন্তু বটমদের মধ্যে প্রায় সবাই ই সত্যিকারের সমকামী মানসিক কারনে যাদের মনোজগত এই দিকে মনোজগত এই দিকে মুভ করেছে , সে আর এই বৃত্ত থেকে বের হতে পারে না । তাকে এই বৃত্ত থেকে বের করা , তার ব্রেনের আবার রিপ্রোগামিং করা , অবচেতন মনের গভিরে গিয়ে কারন অনুসারে তার কারন দূর দেওয়া ও মানসিক সাপোর্ট দিয়ে তাকে স্বাভাবিক পথে নিয়ে আসাই চিকিৎসকের কাজ ।
.
এজন্য প্রথমেই কাউন্সিলিং করার টেকনিকটা শিখে নিতে হবে , সাথে সাইকোথেরাপি । ভালো হয় কারোকাছ থেকে মরহুম এম ইউ আহমেদ স্যারের উদ্ভাবিত মেডিস্টিক সাইকোথেরাপি শিখে ফেলা । এছাড়াও আরো কিছু থেরাপি আছে । সমকামিরা পারিবারিক ভাবে চাপে থাকে , তাদের সহায়তা পায়না তাই এখানে থেরাপিতে পরিবারকেও অনেকসময় সম্পৃক্ত করতে হয় । এর জন্য ও থেরাপি আছে , যেমন ফেমিলি থেরাপি , গ্রুপ থেরাপি ইত্যাদি । সাথে মেডিটেশনটা শিখে নিন যতগুলো পারেন আর প্রাক্টিস চালু রাখুন । আয়ুর্বেদিক সাত্ত্বিক আহার , ও বটি টাইপ আহারের পদ্ধতি শিখে নিন । মনে রাখবেন খাবার মানুষের মনোজগতে ও শরিরে খুব ভালো প্রভাব ফেলে ।
.
মেডিটেশনের সাথে হেটরো সাজেশন , অটোসাজেশন , ভিজুয়ালাইজেশন টেকনিক ইত্যাদি রোগীর উপর প্রয়োগ করা লাগতে পারে । ভালো হয় , কোনো একজন অভিজ্ঞ ক্লিনিক্যাল সাইকোলোজিস্টের কাছ থেকে ভালো করে কাউন্সেলিং ও থেরাপির বিষয়গুলো শিখে নেওয়া । তবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হলে আরো ভালো । দেশে কয়েকটি মেডিটেশন আছে , এর মধ্যে সবচেয়ে ইফেক্টিভ কোয়ান্টাম মেডিটেশন এবং সিলভা মেডিটেশন ( সিলভার দুইটি গ্রুপ আছে দেশে , আপনি যেকোনো একটা করলেই হবে ) , ইয়োগাটাও শিখে নিন , কাজে দিবে । কোনো হিপনোথেরাপিস্টের কাছথেকে হিপনোথেরাপিটা শিখে নিন , সমকামীদের জন্য হিপনোথেরাপি খুব দ্রুত রেজাল্ট নিয়ে আসে ।
.
আরেকটা কথা মনে রাখুন, সমকামীতা মূলত একটি মানসিক রোগ ।তবে অনেকে মানসিক রোগ না বলে এটাকে মানসিক বিকৃতি বলে থাকেন , আমাদের কাছে মানসিক বিকৃতি মানেই হলো মানসিক রোগ । তবে কোনো কোনো বিজ্ঞানিদের মতে মস্তিষ্কের নিউরনে অসুস্থতার কারণেই মানুষ সমকামি হয়ে থাকে । বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেকে উভয়কামি থাকলেই এক সময় সমকামী হয়ে উঠে । হয়তো তার পার্টনারের অনবরত খারাপ ব্যবহার হয়তো এ বিষয়ে একে অপরের প্রতি প্রথমে তারপর বিপরিত লিঙ্গের প্রতি অবচেতন মত বিদ্রোহ শুরু করে দেয় ।

কিন্তু মাথায় রাখতে হবে মস্তিষ্কের নিউরনে অসুস্থতার কারণেই যদি কেউ সমকামী হয় তাহলে এটাও একটা অসুস্থতা । আর যা অসুস্থতা তা স্বাভাবিক নয় ,অসুস্থতা মানে রোগ আর রোগের চিকিৎসা আছে । নিউরনের অসুস্থ অবস্থাকে সুস্থ্য করা এখানে মূল বিষয় এ জন্য হোমিও মেডিসিন খুব হেল্প করবে । এর ফলে সমাকামিতার মূল কারন দুর করা যায় , আর কারনের সাথে সাথে সমকামিতার প্রবনতাও দূর হয় ! এক্ষেত্রে নিম্নের হোমিও ওষুধ হেল্প করবে ।
.
** মেয়ে সমকামিদের জন্য – প্লাটিনাম ও পালসেটিলা ( এই দুইটির মধ্যে যার লক্ষন বেশি সেই মেডিসিন প্রয়োগ করতে হবে )
** ছেলে সমকামীদের জন্য – ল্যাকেসিস ও সালফার ( এই দুইটির মধ্যে যার লক্ষন বেশি সেই মেডিসিন প্রয়োগ করতে হবে )
** উভকামী , লুচ্চা , নোংরামী স্বভাব , লম্পট , অতি হস্তমৈথুন বা হস্তমৈথুনে এডিক্টেড দের জন্য ( পুরুষ ) বিওফো রানা (২০০ শক্তি ) প্রতি সপ্তাহে একমাত্রা ।
.
সমকামীতা শুধু মাত্র ওষুধের দ্বারা দূর করা যায় না , এখানে মনোচিকিৎসার ( নানান থেরাপি) সাথে মেডিসিন প্রয়োগ করতে হয় । অনেক ক্ষেত্রে কোনো মেডিসিন ছাড়াই ভালো করা যায় । এটা কাউন্সিলিংয়ের পরে বোঝা যায় । এজন্যই মহাত্তা হ্যানিম্যান অর্গানন অব মেডিসিনে মেসমেরিজমের কথা বলেছেন , মেসমেরিজম মানেই হলো এই থেরাপির টেকনিক । প্রিয় হোমিও ডাক্তার ভাই ও বোন শুভকামনা আপনার জন্য , যে কোনো বিষয় ফাইজুল ভাইকে পাশে পাবেন ।
সমকামীতিা নিয়ে আরও একটি রঙ্গ পোস্ট দেখুন এখান ক্লিক করে
এ বিষয়ে একটি ভিডিও –
https://www.youtube.com/watch?v=vD9OFBYY6Uk
.
বিঃদ্রঃ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়া যাবে না ।
ধন্যবাদ সবাইকে ।
.
রেফারেন্সঃ
১। http://shodalap.org/shams/10748/
২।https://usatoday30.usatoday.com/news/washington/2006-06-20-military-gay_x.htm
৩। http://www.nature.com/news/2010/100709/full/news.2010.344.html
৪। https://academic.oup.com/ije/article/26/3/657/742184
৫। https://www.verywell.com/substance-use-in-lgbt-students-21878
৬। https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC1508407/
৭। http://www.newsweek.com/staph-strain-gay-disease-87285
৮। http://www.startribune.com/syphilis-spike-linked-to-homosexual-activity/40434042/
৯। http://www.newsweek.com/staph-strain-gay-disease-87285
১০। http://news.bbc.co.uk/2/hi/science/nature/325979.stm
১১। http://news.bbc.co.uk/2/hi/health/3735668.stm
১২। http://content.time.com/time/magazine/article/0,9171,1960257,00.html
১৩। https://news.nationalgeographic.com/news/2004/07/0722_040722_gayanimal.html

নিচের বাটনগুলো দ্বারা শেয়ার করুন:

ফেইসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of

ফেসবুকে লাইক দিন

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

MD. Faijul Huq youtube subscribe

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

error: Content is protected !!
Dr. Md. Faijul Huq
Dr. Md. Faijul Huq