রজনী (উপন্যাস) পর্ব-৪

ক্যাটাগরি: ক্যাটাগরি বিহীন | তারিখ: 28/12/18 | No Comment

( আমার লেখা প্রথম ও শেষ উপন্যাস । এই উপন্যাসটি একটি সত্যি ঘটনার উপরে ১৯৯৮ সালের প্রেক্ষাপটে লেখা । এই উপন্যাসে কোনো শিক্ষণীয় কিছু নাই , জাস্ট একটি সত্যি প্রেমের কাহিনীকে উপন্যাসের মত করে পর্ব পর্ব করে আপনাদের সাথে উপস্থাপন করবো । খুব হালকা ও সাহিত্যমানহীন এই লেখা পড়ে সময় নষ্ট করার আগে আরেকবার চিন্তা করুন , আপনি কি এই লেখা পড়ে সময় নষ্ট করবেন ?
.
আজ থেকে ২০ বছর আগে এই উপন্যাসটি লিখেছিলাম ।
.
আজ পড়ুন ৪র্থ পর্ব !

অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা যাবে না । ধারাবাহিক ভাবে পর্ব পর্ব আকারে এই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে । পাত্রপাত্রীর নাম , স্থান কাল্পনিক। )

.

রজনী

মোঃ ফাইজুল হক

.

চিঠি লেখা হল বটে কিন্তু পোষ্ট করা আর হলনা । রিয়াজ আহমেদের নিজের লেখা চিঠি নিজের কাছেই অবান্তর লেগেছে । সঙ্গত কারনেই চিঠি পোস্ট করা হয়নী । সলেমান  মিয়া কি করে যে চার পৃষ্ঠার বিশাল চিঠি লিখেছে আল্লাহই ভাল জানেন । বিশাল চিঠি হলেও এই চিঠি পড়তে বিরক্তি লাগেনা , ভাল লাগে ।

রিয়াজ আহমেদের মনে সলেমান মিয়া সম্পর্কে কৌতুহল জেগে উঠল । শুভ কে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন ,  সলেমান মিয়া কে ?

ঃ এই বাড়ীর মাস্টার, আমরা ডাকি বস্‌ ।

ঃ উনি কখন পড়াতে আসেন ?

ঃ ঠিক নাই , ওনার ইচ্ছে মতো আসেন ।

ঃ বয়স কতো হবে ?

ঃ ধরেন সাতাইশ আঠাইশ বছর হইবে ।

ঃ দেখতে কেমন ?

ঃ ফর্সাও না আবার কালোও না । লম্বাও না খাটোও না । দেখতে খুব একটা সুবিধার না । হাবিবা আন্টি স্যারকে একটা নাম দিয়েছেন হনুমান স্যার । মাস্টার সাবকে নাকি হনুমান এর মত লাগে । তবে তার একটা ভাল গুন আছে । হাত দেখে সব কিছু বলে দিতে পারে ।

ঃ তিনি কি তোমার আন্টির হাত দেখেছেন ?

ঃ হ্যা ।

ঃ হাত দেখে কি বলেছেন ?

ঃ অনেক কিছু বলেছেন , সব কথা মনে নাই ।

ঃ যা যা মনে আছে তার দু একটা বল ।

ঃ বলেছেন যে আন্টির বিয়ে হবে হঠাত করে । বিয়ের পরে বিদেশ যাত্রার যোগ আছে । বরের বুকে পিঠে তিল থাকবে । বর হবে ফরসা আর লাজুক । এই কথা বলার পর থেকে হাবিবা আন্টি সলেমান স্যারকে দু চোখে দেখতে পারেন না ।

রিয়াজ আহমেদ বলল , আচ্ছা তুমি যেতে পারো । শুভ চলে গেল । রিয়াজ আহমেদ ক্যাসেড অন করে দিল । গান বাজছে –

আমার পরানে যাহা চায়

তুমি তাই তাই গো………

.

মোস্তফা সাহেব বাড়ি ফিরেছেন । এখন রাত আট টা । আজ তার চাকুরীর প্রমোশন হয়েছে । প্রমোশন পেয়ে আজ তিনি ভীষণ খুশী । খুশির খবরে অন্যদেরও খুশি করতে হয় । সে জন্য তিনি দু কেজি সন্দেশ কিনেছেন । জাহানারা বেগমের জন্য কিনেছেন একটা শাড়ি । আসমার জন্য কিনেছেন একটা নীল মারকারী চশমা । হাবিবার জন্য কিনেছেন একটা মেকআপ বক্স । শুভর জন্য এনেছেন একটা হাফ হাতা গেঞ্জি আর একটা প্যান্ট । মোস্তফা সাহেব অফিসে বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে আজ তিনি কিছুতেই রাগ করবেন না, বিরক্ত হবেন না । সবাই একত্রে রাতের খাবার খাবেন । সবাই মিলে আনন্দ করবেন । আজকের দিনটা হবে আনন্দের দিন ।

মোস্তফা সাহেবের সিদ্ধান্ত সফল হলনা । বাড়ী ফিরে তার সমস্ত আনন্দ ভাবনা মাটি হয়ে গেল । তিনি রিয়াজ আহমেদ এবং হাবিবা কে ড্রয়িং রুমে ডেকে পাঠালেন । তিনি নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন । এমনিতেই তিনি হাই প্রেসারের রোগী । রেগে গেলে প্রেসার আরও বেড়ে যাবে । ডাক্তার তাঁকে টেনশন করতে নিষেধ করে দিয়েছেন । তিনি বসেছেন সোফার উপর । তার সামনে দু দিকে দুতি সিঙ্গেল সোফায় বসেছে হাবিবা আর রিয়াজ আহমেদ । মোস্তফা সাহেব রিয়াজ আহমেদ কে লক্ষ্য করে বললেন –

ঃ তোমার নাম কি ?

ঃ রিয়াজ আহমেদ ।

ঃ তোমার বাবার নাম ?

ঃ আনোয়ারুল কাদির ।

ঃ তোমার বাবা কি ডেপুটি কমিশনার ছিলেন ?

ঃ হ্যা, আপনি কি আমার বাবাকে চিনেন ?

ঃ চিনি ।

মোস্তফা সাহেবের স্বরটা একটু নরম হয়ে এল । আনোয়ারুল কাদির তার সহপাঠী । ক্লাশ সিক্স থেকে ইন্টার মিডিয়েট থেকে একসাথেই পড়াশুনা করেছেন । দুজনের মধ্যে ভীষণ বন্ধুত্ব ছিল । দুজন দুজন কে ভায়রা ভাই বলে ডাকতেন । সেই আনোয়ারুল কাদিরের ছেলে তার সামনে বসা । তিনি ভেবেছিলেন দু চারটে কথা বলে পুলিশের হাতে তুলে দিবেন । বন্ধুর ছেলেকে পুলিশের হাতে দেয়া যায়না । মোস্তফা সাহেব বললেন, শোন বাবা তোমার বাবা আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন । সেজন্য তোমাকে অপমান করবো না । ভালয় ভালয় চলে যাও । তুমি অনেক দূর এগিয়েছ । আমার মেয়েকে চিঠি লিখেছ তার উপর আবার আমার বাড়িতে বসে রয়েছ । কোন সাহসে তুমি আমার বাড়িতে এসেছ ?

ঃ আমি ইচ্ছে করে আসিনি । হাবিবা আমাকে ডেকে এনেছে ।

ঃ ডেকে এনেছে কেন ?

ঃ হাবিবাকে জিজ্ঞেস করুন । ও বলুক । আমি বলতে চাইনা ।

মোস্তফা সাহেব হাবিবা কে জিজ্ঞেস করলেন ওকে ডেকে এনেছ কেন ?

ঃ রিয়ে করবো বলে ডেকেছি ।

ঃ কই বললি তুই ! তুই বিয়ে করবি ? ওকে বিয়ে করবি ?

ঃ না, বিয়ে করবো বলে ডেকে এনেছি । এটা একটা ফন্দি । আমি বিয়ে করবো না ।

ঃ তাহলে ডেকেছিস কি জন্য ?

ঃ তুমি ওকে জিজ্ঞেস করবে ও কেন আমাকে চিঠি লিখেছে ?

ঃ চিঠি লিখেছে সে জন্য তুই ডেকে এনে অপমান করবি ?

ঃ হ্যা, অবশ্যই করবো । মেয়েদের দেখলেই চিঠি লিখতে হবে কেন?

রিয়াজ আহমেদের মাথাটা ঝিম ঝিম করে উঠল । এই মেয়ে কি বলে । মেয়েদের হৃদয় থাকে কোমল । এটা মেয়ে না দাজ্জাল । সকালের হাবিবা আর রাতের হাবিবা সম্পূর্ণ বিপরীত ।

মোস্তফা সাহেব রিয়াজ আহমেদ কে বললেন , শোন বাবা তুমি চিঠি লিখেছ সেটা আমি মনে রাখলাম না । আমার মেয়ে যা করেছে সেজন্য আমি দুঃখিত । তুমি চলে গেলে খুশি হব ।

রিয়াজ আহমেদ রাতের রাস্তায় হেটে চলেছে । রাস্তার লাইট পোস্ট গুলো যেন ব্যঙ্গ করে হাসছে । পৃথিবীটা মস্ত বড় এক বিশ্বাস ঘাতকের আস্তানা ।

.

রাত সাড়ে এগারোটা । রিয়াজ আহমেদ  নিজের লেখা কবিতা আবৃতি করছে । রিয়াজ আহমেদের ছোট বোন আইরিন জাহান চুপি চুপি এসে পিছনে দাড়িয়েছে । রিয়াজ আহমেদ আবৃতি করে চলছে –

নীহারিকা

লাল শাড়ি পরে তুমি ডেকেছিলে

তোমার দু চোখে ছিল বিপ্লবি শান্তনা

সে এক সাহসী নারী কহিলা আমারে

ভীত কেন ? সাহস রাখিও বুকে

আমি পাশে ভয় নেই ।

বলেছিলে তুমি গোলাপ দুটি নিবে

সেই তুমি পালটে গেলে , কথা দিয়ে কথা রাখিলেনা

কান কাটা অপমান , ছলনা, প্রতারনা দিলে উপহার

তুমি কি বুঝেছো আমার হয়ে ছেকবর

আমি আজ মস্ত বড় এক বেঈমানের শিকার ।

আইরিন মুখ খুলল ‘’ আহা ভাইয়ার কবর হয়ে গেল আমি জানলাম না , কে সেই পাপিয়াসী নারী আমার ফেরেস্তা ভাই এর সাথে বেঈমানি করে  ?

রিয়াজ আহমেদ হক চকিয়ে গেল । বলল , তুই এখানে কখন এসেছিস ? চুপি চুপি কারো ঘরে ঢোকা অন্যায় । মহা অন্যায় । তোর কঠিন শাস্তি হওয়া উচিৎ ।

শাস্তি হওয়া উচিৎ মানে একশ বার শাস্তি হওয়া উচিৎ । মৃত্যু দন্ড হওয়া উচিৎ । কিন্তু মরার আগে আমি সেই প্রতারক মেয়ের নামটি জানতে চাই যে আমার লক্ষী ভাইয়ার সাথে বেঈমানী করেছে । কবর বাসী ভাই আমার রাত জেগে জেগে দুঃখের কবিতা আবৃতি করছে ।

ঃ ফাজলামো করবিনা । এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার । বেশি বাড়াবাড়ি করলে কান মলে দিব ।

ঃ কান মলা খেতে হবে ক্যান ? সত্য কথা শুনে ফেলেছি তাই ?

ঃ কবিতা কবিতাই । এর কোন সত্য মিথ্যা নাই । কবির মন বড় বিচিত্র । যখন যে ভাব আসে । তোরা এসব   বুঝবিনা ।

ঃ কি জানি , নাও বুঝতে পারি । তবে এতটুকু জানি ছ্যাক খেলে ভাবের মাত্রা বেড়ে যায় । ঠিক বলছিনা ?

ঃ চুপকর । তোরা মেয়ে জাতটা হলি শয়তানের বাহন ।

ঃ কি বললি আমরা শয়তানের বাহন ?

ঃ হ্যা, শয়তানের বাহন না হলে আজ আমাদের দুনিয়ায় থাকতে হতনা । আমরা থাকতাম বেহেস্তে । মা হাওয়া বেহেস্তে বাবা আদম কে গন্দম খাইয়েছে বলেই তো দুনিয়ায় আসতে হল । বেহেস্তে শুয়ে বসে খেতাম আর হুর গেলমান নিয়ে আনন্দ ফুর্তি করতাম ।

ঃ থামলি কেন ? বল, বলে যা, আরও কিছু বলার আছে ?

ঃ আছে, তোদের সম্পর্কে কোরআন পাকে কি বলা হয়েছে জানিস ? কোরআন পাকে বলা হয়েছে ‘’ শয়তানের চক্রান্ত দুর্বল , নারীর চক্রান্ত বড়ই জটিল ‘’ । তোরা হলি শয়তানের চেয়েও খারাপ ।

ঃ এসব কোরআন কিতাব শিখেছিস কবে ?

ঃ আমি শিখিনাই । নুরু মৌলভি বলেছে ।

ঃ নুরু মৌলভির কথা শুনতে ইচ্ছে করছেনা । আগে বল তোর নীহারিকা টা কে ?

ঃ নীহারিকা কে দিয়ে তোর কাজ হবে ?

ঃ কাজ আছে । বলনা কে ?

ঃ বলা যাবেনা । সমস্যা আছে ।

ঃ কোন সমস্যা নেই । তুই তো সব কথাই আমার কাছে বলিস । এখন আবার লুকাচ্ছিস কেন ? বল,কথা দিচ্ছি কারো কাছে বলবনা ।

ঃ শুনলে হাসাহাসি করবি ।

ঃ বল , হাসবনা । তুই কার প্রেমে পড়েছিস ?

ঃ তোদের কলেজের একটা মেয়ে । নাম কি ?

ঃ হাবিবা ।

ঃ কি বললি, হাবিবা ! তুই হাবিবার প্রেমে পড়েছিস ?

ঃ শুধু প্রেমে পড়িনাই, অপমানিত হয়েছি । ডেকে নিয়ে দস্তুর মত অপমান করেছে ।

ঃ তুই জানিস হাবিবা কে ?

ঃ কে ?

ঃ হাবিবা আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড । তুই হাবিবার প্রেমে পড়েছিস তা আমাকে আগে বলবিনা । মাঝে মাঝে তুই   গাধার মত কাজ করিস ।

ঃ হাবিবা তোর ফ্রেন্ড তা কি আগে জানতাম ?

ঃ কি হয়েছে প্রথম থেকে বল । দেখি কিছু করা যায় কিনা ।

রিয়াজ আহমেদ তার অভিজ্ঞতা খুলে বলেছে । আইরিন জাহান মিট্মিট করে হাসছে । রিয়াজ আহমেদ কথা বলছে আর হাল্কা হচ্ছে । মনের চাপা কষ্ট টা দূর হচ্ছে । সেই সাথে লজ্জা লজ্জা লাগছে । ছোট বোনের কাছে প্রেমের ব্যর্থতার কথা বলতে সবার লজ্জা লাগে ।

.

কানাডা থেকে চিঠি এসেছে । শায়ের আহমেদ লিখেছেন । তিনি রিয়াজ আহমেদের জন্য কানাডায় চাকুরী ঠিক করেছেন । কাগজ পত্র নিয়ে কোন সমস্যা হবেনা ।  ভাল চাকুরী । বেতন বাংলাদেশি টাকায় মাসে প্রায় এক লক্ষ টাকা ।  থাকা খাওয়া ফ্রী । ফ্যামিলি সহ থাকা যাবে । নাজনীন নাহার রিয়াজকে বিয়ে করে যেতে বলেছেন । এক মাসের মধ্যে বিয়ে করতে হবে । কাগজ পত্র পাঠাতে হবে । দু মাসের মাথায় ফ্লাইট । চিঠি পেয়ে আইরিন জাহান ভীষণ খুশি । রিয়াজ আহমেদ তেমন খুশী না । বেজারও না ।

সুন্দর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের তুলনা হয়না । সামান্য টাকার জন্য জীবনের কয়েকটা বছর বিদেশে কাটাতে ইচ্ছে হয়না । স্বদেশ ছেড়ে যাবার সময় মানুষ স্বদেশের ভালবাসা অনুভব করেন । স্বদেশের জন্য প্রানটা হু হু করে কেঁদে উঠে । তবুও যেতে হবে । টাকা কামাই করতে হবে । টাকা দিয়ে মানুষের মর্যাদা নির্ণয় করা হয় । কি বিচিত্র এই দুনিয়াটা ।

আইরিন জাহান রিয়াজ আহমেদ কে কথা দিয়েছে যে সে হাবিবা কে বোঝাবে । রাজি করাবে । এমনকি এক মাসের মধ্যে বিয়ের ব্যাবস্থাও করবে । রিয়াজ আহমেদ বলেছে এ অসম্ভব ব্যাপার ,এ হয়না । যে মেয়ে তাঁকে অপমান করেছে সে মেয়েকে কি করে বউ করে ঘরে আনবে । আর সেই মেয়েই বা কি করে রাজি হবে । মোস্তফা সাহেব তো রাজি হবেই না । যে ঘটনা সে দিন ঘটেছে তার পর কোন মুখে রিয়াজ আহমেদ তার সামনে দাঁড়াবে । এসব কথা ভাবতেই গায়ে কাটা দিয়ে উঠে । বাবা !মেয়ে না তো যেন জীবন্ত মহিলা মীরজাফর ।

রিয়াজ আহমেদ আইরিন জাহান কে নিষেধ করে বললেন , এ নিয়ে ঘাটাঘাটি করিস  না । শুধু শুধু জল ঘোলা হবে । আর কোন লাভ হবেনা । শেষে তুইও কষ্ট পাবি ।

ঃ আমার কষ্ট নিয়ে তোকে ভাবতে হবেনা । আরে জল ঘোলা হবেনা তবে মাছ ধরা পড়বে । আমার কাজ আমাকে করতে দে । দেখ আমি কি করতে পারি ।

ঃ এবার তো ভালয় ভালয় এসেছি । দেখিস আবার জেলে যেতে না হয় । তোদের বুদ্ধির দৌড় তো দেড় হাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ।

ঃ তোর বুদ্ধি বুঝি তাল গাছের মত ? তাল গাছের মতো বুদ্ধি নিয়ে দেড় হাত বুদ্ধির মেয়েদের কাছে হেরে গেলি কেন ?

ঃ হেরে গেলাম কোথায় , ও তো কথা দিয়ে কথা রাখেনি । বেঈমানি করেছে , বেঈমানি ।

.

আইরিন জাহানের কথা সত্যি হয়েছে । হাবিবা সত্য সত্যি রাজি হয়েছে । রিয়াজ আহমেদ আইরিন জাহানের ভাই সে কথা শুনে তো হাবিবা হেসে কুটি কুটি । হাবিবা বলল,  দেখ তোর ভাই উনি সে কথা আগে বলেননি কেন । তাছাড়া আমাকে ভাললাগে সে কথা তো তোর দ্বারাও জানাতে পারত । তাহলে তো এই বিচ্ছিরি ঘটনা ঘটতনা । ডেকে নিয়ে অপমান করেছি এটা আমার কিছুতেই উচিৎ হয়নি । আমি একা একা ভেবে দেখেছি এত বড় অপমান করা আমার কিছুতেই উচিৎ হয়নি । আমি তার সামনে দাড়াবো কেমন করে ?

ঃ ও কিছুনা । তোর তো তেমন দোষ না । দোষ তো এই রিয়াজ গাধাটার । বুদ্ধিশুদ্ধি বলতে কিছু নেই । কি করে যে এমএ পাশ করেছে কে জানে ।

ঃ আমার ভয় হয় । ভীষণ ভয় ।

ঃ কিসের ভয় ?

ঃ বাবাকে নিয়ে ভয় । বাবা যদি রাজি না হন । সে দিন যে ঘটনা ঘটেছে তারপর বাবা রাজি হবেন সেটা মনে হয়না । বাবা কঠিন মানুষ । একবার বেকে বসলে আর সোজা হবার নয় ।

ঃ অবশ্যই রাজি হবেন । আমার বাবা তোর বাবার ঘনিষ্ট বন্ধু । বাবাকে দিয়ে তোর বাবার কাছে অফার পাঠাব ।

ঃ বাবা যদি তোর বাবার কোথায় রাজি না হয় ? তখন কি হবে ?

ঃ কি আর হবে , তুই সোজা আমার কাছে চলে আসবি । আমার বাসার সব আমি ম্যানেজ করবো ।

ঃ বলিস কি তুই !তোদের বাসায় চলে আসব ! জীবনে আর মা বাবার মুখ দেখতে হবেনা । আমার ছোট ফুফু নুসরাত জাহানের ঘটনা জানিস । লাভ ম্যারেজ করেছিল । দাদাজান তাঁকে জনমের মত ত্যাজ্য করে দিয়েছেন ।

ঃ রাখতো তোর দাদাজানের কথা । দাদাজানের যুগ চলে গেছে । এখন আধুনিক যুগ । তাছাড়া আমার মনে হয় হয় আঙ্কেল রাজি হবেন । তুই শুধু শুধু দুশ্চিন্তা করছিস । বাবার অনুরোধ আঙ্কেল অবহেলা করবেন না ।

ঃ আইরিন শোন , একটা কথা বলি … থাক ।

ঃ থাকবে কেন , বল ।

ঃ না বলবনা , বললে তুই ইয়ার্কি করবি ।

ঃ বল, ইয়ার্কি করবনা ।

ঃ বিশ্বাস হয়না । হয়তো মুখে কিছু বলবিনা কিন্তু মনে মনে বলবি বেহায়া ।

ঃ অত ঢং করিস  না । ইচ্ছে হলে বল না ইচ্ছে হলে বলবিনা ।

ঃ তোর ভাইয়া কিন্তু ভীষণ সরল মনের মানুষ । আমি যখন তাঁকে বললাম যে আজকে বিয়ে করবো , সে এক কোথায় বিশ্বাস করল । তোর ভাইয়া চলে যাবার পর সারা রাত তার করুন মুখটা আমার চোখে ভেসে রইল । মনে হল এতটা অপমান না করলেও তো হত । বেচারা নাহয় একটা চিঠি লিখেছে । ভালবাসার চিঠি লিখা কি খুব একটা অন্যায় । আজ কালকার ছেলেরা কতো কি করে । সেদিন হতে তোর ভাইয়ার চিঠিটা কম করে হলেও রোজ পাঁচ বার করে দেখি । শত হলেও জীবনের প্রথম প্রেমের চিঠি । ভাবতেই ভাল লাগে । বার বার ইচ্ছে হয়েছে কি জানিস ?

ঃ ইচ্ছে হয়েছে ক্ষমা চেয়ে নিবি, তাইনা ?

ঃ হ্যা, তুই বুঝলি কেমন করে ?

ঃ আমার মাঝে বুঝি ভালবাসা নেই ? প্রেম সব হৃদয়ে সমান ।

.

চলবে ………………………

 

নিচের বাটনগুলো দ্বারা শেয়ার করুন:

ফেইসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of

ফেসবুকে লাইক দিন

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

MD. Faijul Huq youtube subscribe

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

error: Content is protected !!
Dr. Md. Faijul Huq
Dr. Md. Faijul Huq