মোটা হওয়ার ও ক্ষুধাবর্ধক ওষুধ

ক্যাটাগরি: শারীরিক স্বাস্থ্য | তারিখ: 05/10/18 | No Comment

যারা মোটা হতে চান তাদের জন্য লিখাটি খুবই গুরুত্বপূর্ন –

বাচ্চা কম খাচ্ছে , খিদে হচ্ছে না বাচ্চার , এমন অনুযোগ নিয়ে চেম্বারে হাজির হন বাচ্চার মা । এদের জন্য কোনো ওষুধ না লাগলেও শুধুমাত্র মন রক্ষার জন্য কোনো এপিটাইজার গ্রুপের ঔষধ দিয়ে দিতে হয় । অথবা অনেক সময় ফাইটম । এটা আগে খুব ছিলো বাচ্চাদের ক্ষুধা বাড়ানোর বিষয়টা । এখন বাচ্চাদের সাথে বাচ্চাদের মা বাবারাও আসে ক্ষুধা বাড়ানোর জন্য ।

যখন রোগীকে বলি , “ ক্ষিদে পাওয়া এমন এক শরীরবৃত্তীক প্রক্রিয়া , যা বাড়াতে কোনও ওষুধ লাগেনা । খিদে বাড়ানোর কোনো ওষুধের কথা চিকিৎসা বিজ্ঞানের কোনও প্রামান্য বইয়ে নাই । এলোপ্যাথিক , হোমিওপ্যাথিক , ইউনানী , আয়ুরবেদিক , হারবাল কোন পদ্ধতিতে এমন কোনো মেডিসিন নাই যেটা আপনাকে রাক্ষস বানিয়ে দেবে আর আপনি সব খেয়ে ফেলবেন । “

তখন রোগী চিন্তা করে আমি ভালো ডাক্তার না , আমি কিছুই জানিনা ।

পাশের ডাক্তার (ডিগ্রী থাক বা না থাক এসব রোগীরা চিন্তা করেনা ) কোপা সামসু বড় বড় বোতল বিক্রি করে যা খাইলেই প্রথম দিন থেকে ক্ষুধা বেড়ে যায় ।

আর , আমি বলি এসব ঠিক না । এসব ভালো না । এসব দরকার নাই । সাধারনভাবে রোগীদের কাছে আমি অজ্ঞ ডাক্তার । এটা যে অশিক্ষিত রোগীদের কথা তা নয় শিক্ষিত রোগীরাও এমন আচরন করেন । অনেক রোগীদের কাছে সত্যি কথার খাওয়া নাই বলেই তারা এসব ক্ষেত্রে বিপদে পরে যায় ।

আসেন এবার ক্ষুধাবর্ধক ওষুধের কিছু হাকিকত পেশ করি – এসব ওষুধ বেশিরভাগ ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক নামের কিছু অথ্যাত কোম্পানি বানায় যা পাওয়া যায় এলোপ্যাথিক দোকানে ইদানিং টাকার লোভে হোমিও ডাক্তাররাও এসব রাখছে । আর কিছু নাম না জানা মির্ডফোর্ড কেন্দ্রিক এলোপ্যাথিক কোম্পানিরাও এইসব  বানায় । এসব ঔষধের মূল উপাদান হলো “সাইপ্রোহেপটাডিন” এবং কিছু স্ট্রেরায়ডের (যেমনঃ ডেক্সামেথাসন) কম্ভিনেশন !!! এলোপ্যাথিক , ইউনানী , আয়ুর্বেদিক , হারবাল , হোমিও নাম যাই হোক উপাধান একই !! এটা হচ্ছে এদের গোপন ফর্মূলা । কোনো বই পুস্তকে , কোনো ফার্মাকোপিয়ায় এ ফর্মূলা নাই । কোনো অনুমোধনও নাই এসব খিচুরি বানানোর ।

এই খিছুরি মার্কা ওষুধ খাওয়ার পর প্রথমদিন থেকেই প্রচুর ক্ষুধা বাড়ে রোগীর স্বাস্থ্য ভালো হতে থাকে , মুখ ফুলে যায় , পেট ফুলে যায় । রোগী মনে করে তার স্বাস্থ্যের উন্নতি হচ্ছে । আস্তে আস্তে  আবার স্বাস্থ্য কমতে থাকে ও খারাপ প্রতিক্রিয়া শুরু হয় । শরিরে পানি জমে যায় , মুখে ব্রন ওঠে , ফুসফুসে পানি জমে , কিডনির নেফ্রন কাজ করেনা , নেফ্রাইটিস হয় , ফলাফল কিডনি নস্ট  হয়ে কয়েকদিন জমে মানুষে টানাটানির পর সোজা “মায়ের ভোগে” !!

এগুলো গল্প না , বা কথার কথা নয় । আমার নিজের দেখা বাস্তব অভিজ্ঞতা । এসব রোগীদের চেহারা দেখলেই আমি বলেদিতে পারি এরা কি খাচ্ছে ।

সরকারের ড্রাগ প্রশাসন এসব জানে , কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সিলগালাও হয়েছে । কিছু ঔষধ নিষিদ্ধ ও হয়েছে , এর পরেও নিষিদ্ধ হয়নি এমন অনেক ঔষধ নামের বিষ এখোনো বাজারে আছে । দোকানদাররা এগুলো খুব অল্প টাকার কিনে বেশি টাকায় বিক্রি করে । যেমন 450 ml এর সিরাপের দাম পাইকারি (TP) ৩৫ থেকে ৭০ টাকায় কিনে ( কোম্পানি ভেদে দাম আলাদা) , আর এদের বিক্রয় রেট (MRP) ৩৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা । দেখেন কত্ত লাভ , আর এই লাভের জন্য কেউ টু শব্ধটি পর্যন্ত করেনা ।

শত শত এমন ওষুধের মধ্যে কয়েকটির নাম বলি । আজ থেকে নিজে সতর্ক হোন অন্যকে শতর্ক করুন , এলাকার কোনো ফার্মেসিতে দেখলে তাদের এগুলো বিক্রি করতে নিষেধ করুন , সমাজকে , প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এরা ।

বাজারে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ,
ইউনি আমলকী প্লাস ( আমলকি প্লাস সরকার নিষিদ্ধ করছে , কিন্তু বাজারে এখোনো পাওয়া যায় , এইটার আবার দু নাম্বার তিন নাম্বার ও আছে ) , রয়েল আমলকী প্লাস সিরাপ ( এটাও নিষিদ্ধ করছে তবুও বাজারে পাওয়া যায় ) , ইউনি লাহাম সিরাপ , আমলকী সিরাপ , পিউটন ,আমটন , জামটন , ভিটাটন , কালোজাম ,জিও ভিটা ,   আমলা ভিট , আমলকী , আমলকী প্লাস প্লাস , আমলা , আমলা প্লাস, রুচিতা , পুদিনা প্লাস ,পুদিনা , পুদিনা এস, ভিটা গেইন সিরাপ , বায়ো টোন সিরাপ , বডি বিল্ডো সিরাপ , এনার্জি প্লাস , এনার্জি সিরাপ । ক্যাপসুল/ট্যাবলেট রুচিতা , রুচক , রুচিক্যাপ , রুচিট্যাব  ইত্যাদি ইত্যাদি ।

সবচেয়ে ভয়ানক তথ্য হলো , বাচ্চাদের জন্য এসব এখন ড্রপ আকারেও বের হয়েছে । কয়েকটি হোমিও কোম্পানির ” বাচ্চাদের মোটা হওয়ার ও রুচি বৃদ্ধির  ড্রপ ” বাজারে পাওয়া যায় ।

এসব কোম্পানির মালিকরা কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিয়েছে এই ক্ষতিকর বিষ বিক্রি করে !!

যারা মোটা হতে চান , তাদের একমাত্র উপায় হচ্ছে ক্ষুধাবর্ধক এসব স্বাস্থ্য ভালো করার ঔষধ থেকে দূরে থাকা । প্রচুর সবজী , ফল , মাছ মাংশ , ডিম , দুধ খান । এতেই পুষ্টি পাবেন , সু স্বাস্থ্য পাবেন , ভালো থাকবেন ।

মাথায় রাখবেন মোটা হওয়া মানেই স্বাস্থ্য না । সুস্থ্য থাকার নামই স্বাস্থ্য । মোটা হওয়ার মধ্যে কোন স্মার্টনেস নাই ।

বিঃদ্রঃ এতসব ভেজালের মধ্যেও কিছু ভালো কোম্পানি আছে যারা সত্যিকার ভালো মেডিসিন তৈরি করে ।

মোটা হওয়ার ব্যাপারে আমার আরেকট লেখা আছে দেখতে পারেন এখান থেকে

মোটা হওয়া নিয়ে ইউটিউবে আমার কিছু ভিডিও –

মোটা হওয়ার ১০০% গ্যারান্টি যুক্ত ফর্মুলা ! Increase your body weight

মোটা হওয়ার সহজ ও নিরাপদ উপায় – পরিপূর্ণ গাইডলাইন | Natural Way to Be Fat

(সবাইকে সচেতন করার জন্য এই পোস্টটি শেয়ার করুন )

নিচের বাটনগুলো দ্বারা শেয়ার করুন:

ফেইসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of

ফেসবুকে লাইক দিন

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

MD. Faijul Huq youtube subscribe

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

error: Content is protected !!
Dr. Md. Faijul Huq
Dr. Md. Faijul Huq