ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু কি রোগে মারা গেছেন ও তার কারণ লক্ষন কি আপনি জানেন ? না জানলে জানুন ও আপনিও সতর্ক হন ।

ক্যাটাগরি: শারীরিক স্বাস্থ্য, সাধারন স্বাস্থ্য | তারিখ: 18/10/18 | No Comment
আইয়ুব বাচ্চুর

ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু আজ বৃহস্পতিবার ( ১৮/১০/২০১৮ ইং ) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান।

তার মৃত্যুতে স্কয়ার হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. মো. নাজিমউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন,তার হার্টের কার্যক্ষমতা ছিল ৩০ শতাংশ। সর্বশেষ তিনি গত সপ্তাহে স্কয়ার হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়েছেন। এর আগে ২০০৯ সালে তিনি হার্টে রিং পরিয়েছিলেন। ( সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তরের অনলাইন সংস্করণ )

আমরা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে জেনেছি , তাকে  হাসপাতালে নেয়ার পথে গাড়িতে এক পর্যায়ে তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, এ সময় তার হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা শূন্যের কোটায় নেমে আসে।

হার্টের এই রোগকে মেডিকেলের ভাষায় বলা হয় কার্ডিওমায়োপ্যাথি । চিকিৎসকদের কথা অনুসারে আইয়ুব বাচ্চু কার্ডিওমায়োপ্যাথি নামক হার্টের  রোগে মারা গেছেন । আসুন আমরা জানি এই রোগটি কি , এর লক্ষন , কারণ ও চিকিৎসা কি ।

  • কার্ডিয়োমায়োপ্যাথি কি ?

হার্ট শক্ত হয়ে বা পুরু হয়ে আকারে বড় হয়ে যাওয়াকে কার্ডিয়োমায়োপ্যাথি বা হৃদ-পেশির রোগ বলে। এই রোগের জন্য হৃদ-পেশির পাম্প করে রক্ত বের করবার ক্ষমতা কমে বা দুর্বল হয়ে যায় এবং হার্ট ফেলিওর হয়।

 কার্ডিয়োমায়োপ্যাথির প্রকারভেদ 

ডায়ালেটেড কার্ডিয়োমায়োমায়োপ্যাথিঃ সবথেকে প্রচলিত রকমের কার্ডিয়োমায়োপ্যাথি। হৃদপিণ্ডের পাম্প করবার প্রধান প্রকোষ্ঠ- বাম নীলয়ের শক্তি কমে যায়। এটা আকারে বড় হয়ে যায় অথবা বিস্তৃত হয়ে যায়, ফলে হৃদপিণ্ডের রক্ত পাম্প করবার কার্যকারিতা কমে যায়।

হাইপারট্রফিক কার্ডিয়োমায়োপ্যাথিঃ এক্ষেত্রে হৃদপেশী অস্বাভাবিক রকমের পুরু হয়ে যায় এবং হৃদপিণ্ডের পাম্প করবার প্রধান প্রকোষ্ঠ- বাম নীলয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হৃদপেশী পুরু-মোটা হয়ে যাবার ফলে হৃদ পেশীর পক্ষে পাম্প করতে সমস্যা হয়।

রেসিট্রিকটিভ কার্ডিয়োমায়োপ্যাথিঃ এক্ষেত্রে হৃদপেশী অনমনীয়-কঠিন এবং অনঢ় হয়ে যায়, অর্থাৎ হৃদপিণ্ড সঠিকভাবে প্রসারিত হতে পারে না এবং দুটো হৃৎস্পন্দনের মাঝে রক্ত ভরতে পারে না।

  • লক্ষণ কি ? 

লক্ষণ হল:

  • পরিশ্রমের ফলে বা বিশ্রামের কারণে নিঃশ্বাসের কষ্ট।
  • পা, পায়ের পাতা এবং গোড়ালি ফুলে যায়।
  • জল জমার কারণে তলপেট ফুলে যায়।
  • শোবার সময় কাশি।
  • অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, যা দ্রুতগতির, পেষানো বা অনিশ্চিত।
  • বুকে ব্যথা।
  • মাথা ঝিমঝিম।
  • মাথা ঘোরা এবং সংজ্ঞা হারানো।

 

  • কারণ কি ? 

কার্ডিওমায়োপ্যাথির কারণ অনেক সময়ে জানা যায় না। ডাক্তার কারও কারও ক্ষেত্রে দায়ী কিছু কারণ খুঁজে পায়, যা হল:

  • জিনগত কারণ এবং কানেক্টিভ টিস্যুর রোগ।
  • রক্তচাপের দীর্ঘদিনের সমস্যা এবং দ্রুত হৃৎস্পন্দনের ক্রনিক সমস্যা।
  • হৃৎপিণ্ডের ভাল্বের সমস্যা এবং আগে একবার হয়ে যাওয়া হার্ট অ্যাটাকের কারণে হৃদপিণ্ডের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
  • মেটাবলিক সমস্যা, যেমন মেদবহুলতা, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের রোগ ইত্যাদি।
  • ভিটামিন বা মিনারেলের অভাব, যেমন থায়ামিন (ভিটামিন বি১)।
  • গর্ভাবস্থাকালিন জটিলতা।
  • অনেক বছর ধরে অতিরিক্ত মদ্যপান।
  • কোকেন, অ্যাম্ফেটামাইন বা অ্যানাবলিক স্টেরয়েড খাওয়া।
  • ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য কিছু কেমোথেরাপির ওষুধ এবং রেডিয়েশন।
  • হৃদ-পেশিতে আয়রন তৈরি হওয়া (হোমোক্রোমাটোসিস)।
  • অস্বাভাবিক মাত্রায় প্রোটিন তৈরি হওয়ার সমস্যা (অ্যামাইলোডোসিস)।

 

  • রোগ নির্ণয় কিভাবে করা যায় ? 

কার্ডিওমায়োপ্যাথি সন্দেহ হলে, রোগ নির্ণয়ের জন্য বেশ কিছু পরীক্ষা করা দরকার।

পরীক্ষাগুলো হল:

বুকের এক্স-রে: হৃৎপিণ্ডের একটা ছবি তুললে বোঝা যাবে যে হৃৎপিণ্ড আদৌ আকারে বেড়েছে কি না।

ইকোকার্ডিওগ্রামঃ হৃৎপিণ্ডের ছবি নেবার জন্য শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। ডাক্তার এই ছবি দেখে হৃৎপিণ্ডের আকার, কার্যকলাপ এবং হৃৎস্পন্দনের গতি পরীক্ষা করে।

ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাফ (ইসিজি): হৃৎপিণ্ডের ইলেকট্রিক গতিবিধির বাধাবিপত্তি এর দ্বারা বোঝা যায়, যার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত জায়গা এবং অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন বোঝা যায়।

ট্রেড-মিল স্ট্রেস টেস্ট: ট্রেড-মিলে হাঁটবার সময়ে হৃৎস্পন্দন, নিঃশ্বাস এবং রক্তচাপ মাপা হয়। ডাক্তার লক্ষণ, এক্সারসাইজ করবার ক্ষমতা এবং এক্সারসাইজের ফলে হৃৎস্পন্দনের কোন অস্বাভাবিক কিছু আছে কি না সেটা পরীক্ষা করেন।

কার্ডিয়াক ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (এমআরআই): ম্যাগনেটিক ফিল্ড এবং রেডিও তরঙ্গের সাহায্যে হৃৎপিণ্ডের ছবি নেওয়া হয়। ইকোকার্ডিওগ্রাফির সাথে এটার ব্যবহার করা হয়, বিশেষকরে যদি রোগ নির্ণয় করবার জন্য ইকোকার্ডিওগ্রামের ছবি কোন কাজে না দেয়।

কার্ডিয়াক কম্পিউটারাইজড টোমোগ্রাফি (সিটি) স্ক্যান: হৃৎপিণ্ডের আকার-আয়তন, কার্যকলাপ এবং হৃৎপিণ্ডের ভাল্ব দেখবার জন্য এটা কখনও কখনও ব্যবহার করা হয়।

রক্ত পরীক্ষা: কিডনি, থাইরয়েড এবং লিভারের কার্যকারিতা পরীক্ষা করবার পাশাপাশি আয়রনের মাত্রা পরীক্ষার জন্য রক্ত পরীক্ষা করা হয়।

 

  • চিকিৎসা কি? 

অবস্থা যাতে খারাপ আকার ধারণ না করে সেটার প্রতিরোধের জন্য এবং জটিলতার ঝুঁকি কমাবার জন্য লক্ষণ, উপসর্গ এবং সমস্যার নিরাময় হল চিকিৎসার সার্বিক লক্ষ্য।

মেডিকেশানঃ হৃৎপিণ্ডের পাম্প করবার ক্ষমতা এবং কার্যকারিতার উন্নতি, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি, রক্তচাপ কমানো, হৃৎস্পন্দনের গতি কমানো, শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল বের করার পাশাপাশি রক্ত জমাট বাঁধা আটকানোর লক্ষ্যে, ডাক্তাররা মেডিকেশানের পরামর্শ দেয়।

ইমপ্ল্যান্টেবল কার্ডিওভেরটার-ডেফিব্রিলাটার (আইসিডি): হৃৎস্পন্দনের গুরুতর সমস্যার ঝুঁকি থাকলে, ডাক্তার ইমপ্ল্যান্টেবল কার্ডিওভেরটার-ডেফিব্রিলাটার (আইসিডি) করার পরামর্শ দেন- একটা যন্ত্র যা হৃৎস্পন্দনের গতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন নিয়ন্ত্রণের জন্য ইলেকট্রিক শক দেয়। বিশেষ কোন কেসে, ডাক্তার পেসমেকার বসানোর পরামর্শ দেয়, যা দক্ষিণ ও বাম অলিন্দের সঙ্কোচনের সাম্যতা বজায় রাখবে (বাই-ভেনট্রিকুলার পেসমেকার)।

সেপ্টাল মাইয়েক্টমিঃ এক্ষেত্রে সার্জেন হৃৎপিণ্ডের নীচের দুটো প্রকোষ্ঠকে আলাদা করা (ভেন্ট্রিকল) পুরু হয়ে যাওয়া হৃৎপেশীর দেওয়াল (সেপ্টাম) বাদ দিয়ে দেয়। এই পদ্ধতির ফলে হৃৎপেশী হৃৎপিণ্ডের মাধ্যমে ভালো করে রক্ত সঞ্চালন করতে পারে এবং মিট্রাল ভাল্ব রেগুরগিট্রেশান কমে।

সেপ্টাল অ্যাবালেশানঃ এই পদ্ধতিতে, ক্ষতিগ্রস্ত জায়গার রক্ত সংবহনকারী রক্তবাহের মধ্যে দীর্ঘ পুরু নলের (ক্যাথিটার) দ্বারা অ্যালকোহল পাঠিয়ে পুরু হয়ে যাওয়া হৃৎপেশীর সামান্য অংশ নষ্ট করে ফেলা হয়।

 

নিচের বাটনগুলো দ্বারা শেয়ার করুন:

ফেইসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of

ফেসবুকে লাইক দিন

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

MD. Faijul Huq youtube subscribe

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

error: Content is protected !!
Dr. Md. Faijul Huq
Dr. Md. Faijul Huq